চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ

Baizid Bostami-4210, Chattogram Cantonment, Chattogram , Bangladesh.

CCPC - SSC পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকের উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষ মহোদয়ের বার্তা

সম্মানিত অভিভাবক,  

 

আসসালামু আলাইকুম।

 

বর্তমানের কোভিড পরিস্থিতিতে উদ্ভুত অস্থির সময়ে স্কুলের দশম শ্রেণির এসএসসি শিক্ষার্থীদের (পরীক্ষার্থী) শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আপনাদের সাথে কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা করতে চাই।

আমরা জানি; চাওয়া-পাওয়া, সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম-স্বপ্ন এসব পরিক্রমার নামই জীবন। প্রায় চৌদ্দ মাস ধরে ঘরে বন্দী থাকা এই জীবনে শিক্ষার্থীরা যেন হাঁপিয়ে না ওঠে সেজন্য প্রথমেই তাদের শরীর যথাসম্ভব নীরোগ রাখার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে। শরীর নীরোগ হলেই মনে আপনা আপনি আনন্দ অনুভূত হবে। আর মন আনন্দে থাকলে নিশ্চিতভাবে প্রাপ্তিও বেড়ে যাবে। পাঠেও তাদের উৎসাহ আসবে। ব্যস্ত মনে কোন শূন্যতাই তাদের গ্রাস করতে পারবে না। তাই তাদের নিজেদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস অবিচল রাখার জন্য পড়ার অভ্যাস অব্যাহত রাখতে হবে।  

 

ছাত্র-ছাত্রীদের কথা বিবেচনা করে আমরা গত বছর লক ডাউনের শুরু থেকে অদ্যাবধি জুমের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম এবং পরীক্ষা চালিয়ে আসছি। তাদের সিলেবাস শেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসমূহ অনুশীলন করা হয়েছে। বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্নসমূহ অনুশীলন করিয়ে প্রস্তুতি যাচাইয়ের লক্ষ্যে অধ্যায়ভিত্তিক (ধারাবাহিক মূল্যায়ন ) পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তারা এসএসসি পরীক্ষার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তাদের প্রস্তুতির ঘাটতি নিরুপনের জন্য সম্পূর্ণ সিলেবাসের উপর মডেল টেস্ট নেয়া হয়েছে যার উত্তরপত্রসমূহ মূল্যায়ন করে আপনাদেরকে দেয়া হয়েছে এবং ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আপনারা আপনাদের সন্তানের পাশে থেকে প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা প্রস্তুতিতে  প্রত্যক্ষভাবে ভুমিকা রেখেছেন। এজন্য আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

পরবর্তীতে শিক্ষাবোর্ড প্রদত্ত সংক্ষিপ্ত সিলেবাস পাওয়ার পর পুনরায় এসএসসি প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা (অধ্যায়ভিত্তিক) শিরোনামে চারটি পরীক্ষা গত ২৯ এপ্রিল ২০২১ তারিখে শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম দুইটি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে আপনাদের নিকট পাঠানো হয়েছে। সরকার প্রদত্ত লক ডাউনের কারণে পরের দুইটি পরীক্ষার উত্তরপত্র গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ইনশাআল্লাহ আগামী কোনো এক সুবিধাজনক সময়ে উত্তরপত্রসমূহ আপনাদের নিকট থেকে গ্রহণ ও মূল্যায়ন শেষে ফেরত দেয়া হবে।

 

পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রস্তুতি আরও টেকসই করার লক্ষ্যে ২৩ মে ২০২১ তারিখ হতে বোর্ডকর্তৃক প্রদত্ত (সংশোধিত ও সংক্ষিপ্ত) সম্পূর্ণ সিলেবাসের উপর মডেল টেস্ট-২ শুরু  হয়েছে।  এ ব্যাপারে আপনার ভূমিকা আরও জোরদার হবে এ আশা করছি।

 

অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষার ব্যাপারে শ্রেণিশিক্ষক ও বিষয়শিক্ষকদের কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এ বিষয়ে আমি অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিঃ

১। অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীরা রেসপন্স করত না। নাম ধরে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যেত না। মাঝে মাঝে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে জুম থেকে তারা বের হয়ে যেত। কিছু কিছু শিক্ষার্থী ছদ্মনাম ব্যবহার করে জুমে প্রবেশ করে ডিস্টার্ব করত। তাদেরকে ভিডিও অন করতে বললেও তারা তা করত না। শিক্ষকগণ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন যে, শিক্ষার্থীরা ভিডিও ও সাউন্ড অফ করে তাদের নিজস্ব গ্রুপে চ্যাটে ব্যস্ত থাকত।    

২। অনলাইন পরীক্ষায় কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময় ও তারিখে পরীক্ষা দিত না। পরীক্ষাসমূহ পিতা-মাতার তত্ত্বাবধানে দেয়ার কথা থাকলেও তারা তাদের পড়ার কক্ষে দরজা বন্ধ করে একা একা পরীক্ষা দিত। এছাড়া জানা যায়, শিক্ষার্থীদের ৪/৫ সদস্যের কয়েকটি চ্যাট গ্রুপ আছে। কোনো শিক্ষার্থী উত্তরপত্রের ছবি তুলে গ্রুপে শেয়ার করে এবং গ্রুপের বাকি সদস্যরা তা কপি করে। এর ফলে গ্রুপের সকল সদস্যদের একই উত্তর পরিলক্ষিত হয়, যা পরীক্ষকদের কাছে ধরা পড়ে।  

শ্রেণিশিক্ষক ও বিষয়শিক্ষকদের পরামর্শ:

১। আগামীতে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে সততার সাথে পিতা/মাতার তত্ত্বাবধানে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

২। নিয়মিত শ্রেণি/বিষয় শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং তাদের নির্দেশনা মানার জন্য আপনার সন্তানকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দিতে হবে।

৩। সন্তানের সাথে দূরত্ব কমিয়ে তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষকদের সহায়তা নেয়া যেতে পারে।

৪। কোনো কোনো শিক্ষার্থীর মাঝে এসএসসি পরীক্ষা ২০২১ অনুষ্ঠিত হবে কিনা এ বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তাদেরকে বোঝাতে হবে যে এ বছর যেকোনো ভাবেই পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং শিক্ষাবোর্ডসমূহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে। তাই তাদেরকে আরও মনোযোগী করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

৫। তাদের মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের সাথে মাঝে মাঝে গল্প করতে হবে, খেলাধুলা করতে হবে এবং মহামানবদের জীবনী শুনাতে হবে।  

৬। পড়ার সময় প্রয়োজনে তাদের কাছে বসে থেকে সহমর্মিতা প্রকাশ করতে হবে। অনলাইন ক্লাশ চলাকালীন আরও বেশি মনিটরিং করতে হবে যাতে তারা ক্লাশে মনোযোগী হতে পারে। পরীক্ষা চলাকালীন তাদের পাশে থাকতে হবে যাতে তারা সততার সাথে মনোযোগী হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।  

৭। তাদেরকে নিয়মতান্ত্রিক, সৎ এবং সহজ সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। তাদের কাছে সময়ের সদ্ব্যবহারের সুফলসমূহ উপস্থাপন করতে হবে।

৮। সন্তানকে কঠোরতা প্রদর্শন না করে উষ্ণ আন্তরিকতায় পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।  

৯। সর্বোপরি, আজকের শিক্ষার্থী জাতির আগামী দিনের কর্ণধার। তাই ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।  

 

পরিশেষে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি। যেন তিনি বিশ্ববাসীকে এ মহামারী হতে মুক্তি দিয়ে আমাদেরকে স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ দেন।  

আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা অস্থির সময়ের মৌল সত্যকে অনুধাবন করে ভবিষ্যতের বরেণ্য হওয়ার লক্ষ্যে পাঠে মনোযোগী হোক এবং দেশ ও জাতির গৌরব বৃদ্ধি করুক। তাদের জীবন আলোয় ভরে ওঠুক। এই প্রত্যাশায় -  

 

কর্নেল মুজিবুল হক সিকদার

অধ্যক্ষ

চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ